হ্যামট্র্যাম্যাকের সেন্ট ফ্লোরিয়ান ক্যাথলিক গির্জায় পাম সানডের গণ-উপাসনা পরিচালনা করছেন রেভারেন্ড রিশার্ড জার্নিয়াক; ছবিটি ২৯ মার্চ ধারণ করা/David Guralnick, The Detroit News
হ্যামট্র্যাম্যাক, ৪ এপ্রিল : হ্যামট্র্যাম্যাকের পোল্যান্ড স্ট্রিটের ওপর মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে সেন্ট ফ্লোরিয়ান ক্যাথলিক চার্চ। এর রঙিন কাঁচের তৈরি গোলাকার জানালাগুলো ঝলমল করছে, যা দুই বর্গমাইল আয়তনের এই ছোট শহরের অতীতের এক উজ্জ্বল স্মারক। যা একসময় শহরটি মূলত পোলিশ অভিবাসীদের একটি বিশেষ জনপদ বা ‘এনক্লেভ’ হিসেবে পরিচিত ছিল।
ইংলিশ গথিক স্থাপত্যশৈলীর আদলে নির্মিত এই চার্চটির চূড়া প্রায় ১৯০ ফুট উঁচু এবং এতে প্রায় ১,৮০০ মানুষের বসার ব্যবস্থা রয়েছে। চার্চটি এমন এক সময়ে নির্মিত হয়েছিল, যখন হ্যামট্র্যাম্যাক ছিল যুক্তরাষ্ট্রের দ্রুততম বর্ধনশীল শহরগুলোর একটি।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে হ্যামট্র্যাম্যাকের জনমিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে এটি মূলত মুসলিম-অধ্যুষিত একটি জনপদে পরিণত হয়েছে এবং পোলিশ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এর প্রভাব পড়েছে সেন্ট ফ্লোরিয়ান চার্চেও। চার্চের যাজকের তথ্যমতে, সপ্তাহান্তের প্রার্থনাসভায় অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে। বর্তমানে ইংরেজি ভাষার প্রার্থনায় প্রায় ১৫০ জন এবং পোলিশ ভাষার প্রার্থনায় প্রায় ২০০ জন অংশ নেন।
চার্চের অনুসারীরা আশা করছেন, আসন্ন ইস্টার মৌসুমে—যখন খ্রিস্টানরা যিশু খ্রিস্টের পুনরুত্থান উদযাপন করেন—চার্চের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেও হয়তো আরও বেশি মানুষ প্রার্থনায় অংশ নিতে শুরু করবেন। চার্চে যোগ দিতে কেউ কেউ শহরের উপকণ্ঠ থেকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে আসেন, আবার ইভলিন ক্যাসপেরেকের মতো কেউ কেউ এখনও হ্যামট্র্যাম্যাকেই বসবাস করছেন।
২৫ বছর বয়সী ক্যাসপরেক বলেন, “এত সুন্দর একটি জায়গা এভাবে প্রায় জনশূন্য পড়ে থাকতে দেখাটা সত্যিই খুব কষ্টের। ভবিষ্যতে কী অপেক্ষা করছে, তা আমি জানি না। আমাদের এই সম্প্রদায়টি ধীরে ধীরে ছোট হয়ে আসছে—অন্তত যারা এখনো নিয়মিত চার্চে আসেন, তাদের কাছে এটি খুবই বেদনাদায়ক। আমার বয়সী খুব বেশি মানুষ এখন আর এখানে আসে না।”
চার্চের অনুসারীদের এই উদ্বেগ এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন ডেট্রয়েট আর্চডায়োসিস (খ্রিস্টান ধর্মপ্রদেশের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ) একটি পুনর্গঠন প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছে। গত নভেম্বর মাসে আর্চবিশপ এডওয়ার্ড ওয়াইসেনবার্গার ঘোষণা দেন, আর্চডায়োসিসের আওতাধীন প্রায় ২০০টি প্যারিশ বা চার্চ ভবনের রক্ষণাবেক্ষণ করা আর সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে জনবল ও আর্থিক সম্পদের সঠিক বিন্যাস ও পুনর্বণ্টনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আর্চডায়োসিসের ‘প্যারিশ রিনিউয়াল বিভাগ’-এর নির্বাহী পরিচালক রেভারেন্ড মারিও আমোরে জানান, এই পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে প্রতিটি প্যারিশে দুটি করে ‘লিসেনিং সেশন’ বা মতবিনিময় অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। চলতি মাস থেকেই এসব অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে এবং জুন মাস পর্যন্ত তা চলবে।
তিনি আরও জানান, সেন্ট ফ্লোরিয়ান চার্চ কিংবা আর্চডায়োসিসের আওতাধীন অন্য কোনো চার্চের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, “এই পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার মূলনীতি হলো—আগাম কোনো সিদ্ধান্ত নির্ধারণ করা হয়নি এবং কোনো চার্চ বন্ধের তালিকাও তৈরি করা হয়নি। স্থানীয় পর্যায়ের মতামত, লিসেনিং সেশন এবং প্রতিটি প্যারিশ সম্প্রদায়ের অভ্যন্তরীণ আলোচনার ভিত্তিতেই ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।”
সেন্ট ফ্লোরিয়ানের ‘ইন সলিডাম’ যাজক রেভারেন্ড রিশার্ড জারনিয়াক বলেন, তিনি আর্চডায়োসিসের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন। তাঁর মতে, “আমি কেবল অনুমান করতে পারি যে, গির্জাটি সম্ভবত খোলা থাকবে।”
এদিকে ‘হোলি স্যাটারডে’ উপলক্ষে সেন্ট ফ্লোরিয়ান চার্চে বিশেষ আয়োজন করা হবে। এদিন যাজকরা প্যারিশবাসীদের ইস্টার বাস্কেট আশীর্বাদ করবেন, যা পোলিশ ক্যাথলিক ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এসব বাস্কেটে সাধারণত ইস্টারের বিভিন্ন খাবার—যেমন মাংস, ডিম ও রুটি—রাখা হয়। পাশাপাশি সপ্তাহান্তে সেন্ট ফ্লোরিয়ানের প্যারিশবাসীরা ইস্টারের বিশেষ প্রার্থনাসভায় অংশ নেবেন।
Source & Photo: http://detroitnews.com
নিউজটি আপডেট করেছেন : Suprobhat Michigan

সুপ্রভাত মিশিগান ডেস্ক :